সুন্দরবনে বাঘের হামলা: কাঁকড়া ধরতে গিয়ে গুরুতর আহত মৎস্যজীবী

 সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের হামলায় গুরুতর আহত মৎস্যজীবী শ্যামাপদ শীল। ভর্তি কলকাতার মেডিক্যাল কলেজে।

সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় আহত মৎস্যজীবী

কাঁকড়া ধরতে গিয়ে সুন্দরবনে বাঘের হামলা, গুরুতর আহত মৎস্যজীবী

Channel Eleven| Desk Report |সুন্দরবন | দক্ষিণ ২৪ পরগনা | ২৫ ডিসেম্বর:

কাঁকড়া ধরতে গিয়ে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে ফের বাঘের হামলার ঘটনা সামনে এল। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন এক মৎস্যজীবী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত মৎস্যজীবীর নাম শ্যামাপদ শীল (৪২)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা থানার চোটোমোল্লাখালির কালিদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার দুপুরে শ্যামাপদ তাঁর দুই সঙ্গীর সঙ্গে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের বাগনা বনাঞ্চলের একটি খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, হঠাৎই একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নৌকার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাঘটি শ্যামাপদের কোমরে কামড় বসিয়ে তাঁকে কাদার মধ্যে ফেলে জঙ্গলের দিকে টানতে শুরু করে। সেই সময় সঙ্গী জগদীশ ঘরণি সাহসিকতার সঙ্গে কাদায় নেমে লাঠি দিয়ে বাঘটিকে আঘাত করলে প্রাণে বাঁচেন শ্যামাপদ।

গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

হাসপাতালের শয্যা থেকেই শ্যামাপদ শীল জানান,

“প্রথমে বুঝতেই পারিনি বাঘ কামড়েছে। কয়েক সেকেন্ড পরে যখন জঙ্গলের দিকে টানছিল, তখন বুঝলাম কী ঘটছে।”

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলটি ন্যাশনাল পার্ক ইস্টের চামটা বনাঞ্চল, যা সম্পূর্ণ কোর এলাকা। সেখানে যেকোনো ধরনের প্রবেশ আইনত নিষিদ্ধ।

এই ঘটনায় ফের সামনে এল সুন্দরবনে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাচ্ছে না।

একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরে সুন্দরবনে বাঘ ও কুমিরের হামলায় অন্তত ২৮ জন আক্রান্ত, যার মধ্যে বাঘের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন